অবশেষে অভিযোগের জবাব দিলেন কন্ঠশিল্পী নান্সি

গত শুক্রবার জনপ্রিয় শিল্পী ন্যান্সি আরটিভির এক অনুষ্ঠানে
প্রখ্যাত গীতিকার জুলফিকার রাসেলের লেখা আরেক
পুরুস্কারপ্রাপ্ত সুরকার বেলাল খানের সুর করা -পাগল তোর জন্য
রে গানটি নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। গানটির গীতিকার ও
সুরকারের নামের পরিবর্তে ন্যান্সি বলেন গানটি সংগ্রহ করা।
তার এই মন্তব্যের পর বেলাল খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ফেসবুকে একটি স্টাটাস দেন। এরপরই ন্যান্সির ওই বক্তব্য নিয়ে
রীতিমতো হৈচৈ ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ন্যান্সির ওই
বক্তব্য কেন্দ্র করে এ নিয়ে সঙ্গীতাঙ্গণের অনেকেই
প্রতিক্রিয়া জানান। যদিও ন্যান্সিকে এ নিয়ে গণমাধ্যমে
কথা বলতে দেখা যায়নি। পাগল তোর জন্য রে গান ও
আরটিভিতে দেওয়া তার বক্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন ন্যান্সি।
‘পাগল তোর জন্য রে’ গানটি নিয়ে বেলাল খানের সঙ্গে
আপনার কিছু হয়েছে নাকি। ঘটনাটি আসলে কি?
ন্যান্সি : এ বিষয়টি নিয়ে কথা না বলাই ভালো। এটা নিয়ে যত
ঘাটাঘাটি হবে, ততই কথার প্রসঙ্গে কথা চলে আসবে।
বিষয়টি নিয়ে তো শিল্পী সমাজের অনেকেই কথা বলছেন?
ন্যান্সি : আমি কি শিল্পী সমাজের কেউ না। কই আমি তো এ
নিয়ে কোন কথা বলছিনা। আমি ভুল করেছি বা পুরো দোষ
আমার, এজন্য চুপ করে বসে আছি; তা কিন্তু নয়। বললে আমিও
বলতে পারি। তখন অনেক কথাই উঠে আসবে।
আপনি বলেছেন, ‘পাগল তোর জন্য রে’ গানটি সংগ্রহ। কিন্তু
এর গীতিকার ও সুরকার দু’জনেই তো বেঁচে আছেন। তাহলে
সেটা কীভাবে সংগ্রহ হলো?
ন্যান্সি : শুরু থেকে গানটি নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। শুরুতে
আমাকে বলা হয়েছিল, ‘পাগল তোর জন্য’ গানটিতে আমার সঙ্গে
কণ্ঠ দেবেন বাপ্পা মজুমদার। জুলফিকার রাসেলের কথায়
গানটির সুর করেছেন বেলাল খান। কিন্তু আমি স্টুডিওতে গিয়ে
দেখলাম, সেখানে বাপ্পা দা নেই। বেলাল খান আমাকে
জানালো, বাপ্পা দা’র কণ্ঠ পরে নেওয়া হবে। তার কথা মেনে
নিয়ে আমি গানটিতে কণ্ঠ দেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম,
সেখানে বেলাল খানের কণ্ঠ। আর যে ছবির জন্য গানটি করা
হয়েছিলো, তা প্রকাশ হয় অন্য আরেক ছবিতে।
এরপর…
ন্যান্সি : গানটি প্রকাশের কিছুদিন পর, অপরিচিত নাম্বার
থেকে আমার কাছে ফোন আসে। ছেলেটির নাম কিরণ। কিরণের
দাবি করে এটা ওর গান। ওর অ্যালবামের নামও ‘পাগল তোর
জন্য’। কিন্তু আমি তা মানতে নারাজ। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে
পারি ছেলেটির কথাই সত্য। আমার কণ্ঠে গানটি প্রকাশের বহু
আগেই কিরণের কণ্ঠে গানটি প্রকাশ হয়। তার সুরও বেলাল খান
করেছেন। আর গানটি লিখেছিলেন অন্য কেউ। নামটি আমার
জানা নেই। পরবর্তীতে ছেলেটি আমাকে বহুবার ফোন করে। এক
সময় সে আমাকে মামলা করার হুমকিও দেয়। আমি ওকে পুরো
বিষয়টি খুলে বলি। সঙ্গে ক্ষমাও চেয়ে নেই। ছেলেটি আমাকে
জানায়, ওকে একটি সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে বেলাল খান
ওর কাছ থেকে গানটি নিয়েছে। ওকে বলেছিলো, ‘গানটি একটি
সিনেমায় তোমার কণ্ঠেই প্রকাশ হবে, আর নয়তো ন্যান্সির
সঙ্গে।’ পরে তো সব উল্টাপাল্টা। ছেলেটি এ নিয়ে বেলালের
বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক কথাই বলে। আমি চাই না, ওই
কথাগুলো বলতে।
ওই গানের কথা আর এই গানের কথা কি এক?
ন্যান্সি : না। ছেলেটিকে আমি এ কথাও বলেছিলাম। উত্তরে
ছেলেটি আমাকে বলেছিল, “আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের ‘আমার
সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালোবাসি’ কথাগুলো রেখে,
যে যার মতো কথা বসিয়ে দেবে এটা কি হয়। আপনি কি আপনার
গানের বেলায় এমনটা মেনে নিতেন।” আমি ওর কথার কোন
উত্তর দেইনি।
গানটির সুরকার ও শিল্পী বেলাল খান এক ফেসবুক স্টাটাস
দিয়ে বলেছেন, মূল বক্তব্যের আগে একটা মিনি ভূমিকা রাখতে
চাই। আমরা সাধারণত নিজেদের গানে কোনও নারী শিল্পী
নির্বাচন করে থাকি। সেটা পুরো অ্যালবামের মধ্যে এক দুইটা
গানে বা সিনেমার চিত্রায়নের প্রয়োজনে। কোনও শিল্পী যদি
আমন্ত্রিত হতে এসে সেই গানের একমাত্র মালিকানা দাবি
করে বসেন অথবা কথা সুর সংগ্রহ বলে চালিয়ে দেন, তাহলে
সেই দুঃখ প্রকাশ কীভাবে করতে হয়, আমি জানি না। আমার
গাওয়া যেসব গান শুরুতেই শ্রোতাপ্রিয়তার উপরের তালিকায়
রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল-পাগল তোর জন্যে রে পাগল-
গানটি। আমার বয়স এখনো যথেষ্ট কম। আমি এই বয়সেই যদি এই
ভার নিয়ে ফেলি যে, আমারই গান কেউ সংগ্রহ বলে চালিয়ে
দিচ্ছেন। সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া যা দেবার, বন্ধুরা
আপনারাই দেবেন। সকলে ভালো থাকুক। ইন্ডাস্ট্রি সুস্থ হবার
আগে আমাদের পরিচিত আর্টিস্টদেরও কারো কারো সুস্থতা খুব
বেশি জরুরি।
বেলাল খান আরও বলেন, জনপ্রিয় গায়িকা ন্যানসি গতকাল
রাতে আরটিভি লাইভে ‘পাগল তোর জন্য’ গানটিকে দেউলিয়া
হিসেবে গেয়েছেন। তিনি বলেছেন এটার কথা-সুর সংগ্রহ।
অবাক হয়েছি এই ভেবে যে, গানটির গীতিকার ও সুরকার-
শিল্পী সবাই জীবিত, মরে যাননি। তারা বহাল তবিয়তে গান
করছেন নিয়মিত। প্রোগ্রামটি দেখেছেন এমন অনেকে বিস্মিত
হয়ে আমাকে ফোন করেছেন। আমি কোনো সদুত্তর দিতে
পারিনি, কী বলবো! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া একজন
সুরকার হিসেবে আমি আজ সত্যিই অসহায় বোধ করছি…।


EmoticonEmoticon