মডেল হিসেবে সফল হতে গেলে কিকরবেন?

মডেল হিসেবে সফল হতে গেলে কি
করবেন?
আসুন, আলোচনা করা যাক মনে রাখার
মত কয়েকটি বিষয়:

১) আপনার শরীরের স্বাভাবিক গড়ন বুঝে ব্যায়াম
এবং বৈজ্ঞানিক খাওয়ায়াদাওয়ার মাধ্যমে নিজেকে
আকর্ষণীয় ও ধারালো করে তোলাটাই আপনার
লক্ষ্য হওয়া উচিত।

২) একই রকম ভাবে ছেলেদের বলি সিক্স-প্যাক
বানালেই সফল মডেল যদি হওয়া যেত, যে কোন
বডিবিল্ডারই তাহলে সবচেয়ে সফল মডেল
হতেন। তবে ভাল মডেল হওয়ার জন্য অবশ্যই
ব্যায়ামপুষ্ট সুন্দর চেহারা আপনাকে বাড়তি সুবিধা
দেবে।

৩) ছেলে ও মেয়ে - দু দলের জন্যেই লম্বা
হওয়াটা কাজ পেতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
বিশেষ করে ফ্যাশন শো, অর্থাৎ র্যাম্প-ওয়াক,
যেখানে মেয়েদের কাজের সুযোগ বেশি,
সাধারণতঃ সেখানে এই লম্বা হওয়াটা একটা বাড়তি সুবিধা
দেয়।

৪) তবে ভাল চেহারা বা ভাল দেখতে হলেই কিন্তু
আপনা থেকে কাজ পাওয়া যায় না। ভাল মডেল হতে
গেলে দরকার হাঁটাচলার নানা কায়দা রপ্ত করা, শরীর
এবং মুখের নানা ভঙ্গিমায় বিভিন্ন ভাব ফুটিয়ে তোলার
ক্ষমতা থেকে শুরু করে মেক-আপ, পোষাক
সম্পর্কে একটা ধারণা, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো,
এরকম অনেক কিছু ঠিকঠাক শিখতে হবে। তাঁর জন্য
দরকার বিশেষ ট্রেনিং, পোষাকী ভাষায় যাকে
‘গ্রুমিং' বলা হয়ে থাকে।

৫) আপনি কত সুন্দর বা আপনার চেহারা কত
আকর্ষণীয়, সেই নিয়ে দেখনদারি কিন্তু মডেল
হিসেবে আপনার প্রধান কাজ না। যাদের হয়ে
আপনি মডেলিং করছেন, তাদের চাহিদা আপনি
কিভাবে পূরণ করছেন, এর উপরেই নির্ভর করবে
আপনার সাফল্য। আসলে আপনার সুন্দর চেহারাকে
ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনদাতা বা তাঁদের প্রতিনিধিরা যদি
তাঁদের পণ্য বা প্রতিষ্ঠানকে মানুষের কাছে পৌঁছে
দিতে চান, এটা মনে রাখতে হবে।

৬) মডেলিং মানেই কিন্তু র্যাম্পে হাঁটা না। এর
বাইরে মডেল হিসেবে কাজ করার অনেক
ক্ষেত্র রয়েছে। তাই র্যাম্পে সুযোগ না
পেলেও আপনার মধ্যে ভাল মডেল হওয়ার গুণ
থাকলে বিজ্ঞাপন সহ নানা কাজে আপনি সুযোগ
পেতে পারেন।

৭) ভাল মডেল হওয়ার জন্য
একটু বিশেষ ধরণের অভিনয় দক্ষতা থাকা বেশ
জরুরী। কারণ, যেহেতু একজন মডেলকে
শরীরের ছন্দ এবং মুখের অভিব্যক্তিতেই
হয়তো বিষয়বস্তুকে দর্শকের কাছে পৌঁছে
দিতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠিত মডেলই
পরবর্তী কালে অভিনয় জগতেও সফল
হয়েছেন।

৮) বিষয়বস্তুর দাবি মেটাতে ;শরীর ঢাকা থেকে
যে কোন খোলেমেলা পোষাকে
নিজেকে তুলে ধরবার দক্ষতা যাদের আছে,
মডেল হিসেবে তাদের সফল হওয়ার সুযোগ
বেশি। তবে যদি কারও কোন বিশেষ পোষাকে
আপত্তি থাকে বা স্বচ্ছন্দ বোধ না করেন,
তাহলে তিনি নিজের সীমা বুঝে কাজ করবেন।
যেমন, যারা ছবি আঁকেন বা ফটো তোলেন
তাদের তো নগ্ন মডেলও লাগে। সেই কাজ যারা
করতে রাজি হবেন, শুধু তারাই করবেন, অন্যরা না।
সবচেয়ে বড় কথা যে কাজই আপনি করতে চান না
কেন, আপনার শরীর বা মুখশ্রী তার জন্য কতটা
মানানসই, এটাই দেখা হয়।

৯) ভাল মডেল হতে গেলে ভাল ফিটনেস
থাকতেই হবে। ফিটনেস বলতে কিন্তু শুধু ভাল
ফিগার বোঝায় না; বোঝায় এই কাজের ধকল
সইতে পারার মত শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা। নানা
পরিবেশে ঘরে বাইরে আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা
কাজ করতে হতে পারে। তা করার মত শারীরিক
সক্ষমতা এবং মানসিকভাবে নিজেকে তাজা রাখার শক্তি
আপনার বড় সম্পদ হতে পারে।

১০) একটা ধারণা আছে বয়স একটু বেড়ে গেলে
আর মডেলদের বাজার থাকে না। কথাটা কিন্তু
পুরোটা ঠিক না। আপনার মডেলজীবন কতটা
স্থায়ী হবে তা নির্ভর করে আপনি নিজেকে
ধরে রাখার ব্যাপারে কতটা মনোযোগী। যদিন
আপনি পেশাটা ভালবাসেন, নিজেকে তৈরি রাখেন,
আর আমোদপ্রমোদ ও হুল্লোরে গা ভাসিয়ে
নিজেকে নষ্ট করে না ফেলেন তাহলে আপনি
অনেকদিন এই পেশায় চুটিয়ে কাজ করতে
পারবেন, যা অনেক নামী মডেল করছেন।

১১) মডেলিং করার পাশাপাশি সাজসজ্জা, মেক-আপ,
অভিনয়, নাচের বিশেষ শিক্ষা যদি আপনার থাকে বা
থাকলে ঝালিয়ে নিতে পারেন, তাহলে কাজের
ক্ষেত্রে আপনার বাড়তি সুবিধা পাবেন। আবার পরে
মডেলিং যদি নাও করেন তাহলে ফ্যাশন ডিজাইনার,
রূপচর্চা বিশেষজ্ঞ হয়ে এই জগতের সঙ্গে
নিজেকে পেশাগতভাবে জড়িয়ে রাখতে
পারবেন।
এই রকম কয়েকটি কথা মাথায় রেখে যদি সঠিক
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমত নিজেকে প্রস্তুত
করেন, তাহলে সাফল্য আসবে। সবজান্তা ভাব
দেখিয়ে নিজেক বরবাদ করবেন না। আবার
নিজের কোন খুঁত নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারাবেন না।
কেউ একশ ভাগ নিখুঁত না। যদি আপনি শেখেন
নিজের খুঁতগুলিকে ছাপিয়ে কিভাবে নিজের
চেহারা, সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্বের আসল রূপকে
তুলে ধরতে, তাহলে আপনার জন্য আপনার
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাজ আছে। দরকার শুধু
আন্তরিকতা আর শেখার ইচ্ছে।

সুত্র: ঢাকা মডেল এজেন্সি


EmoticonEmoticon