অবশেষে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হলেন জেসিয়া ইসলাম

কে এই জেসিয়া?

আগামী ১৪ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আসে দুটি প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট।
গত শুক্রবার রাতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা হয়। ওই রাতে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের সেরা ১০ জনের মধ্য থেকে চ্যাম্পিয়নের নাম ঘোষণার জন্য মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় উপস্থাপিকা শিনা চৌহান প্রথমে প্রথম রানার-আপের নাম ঘোষণা করেন।
 এরপর বিচারকদের দেওয়া চিরকুট দেখে ঘোষণা করেন ‘উইনার ইজ হিমি’, অর্থাত্ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। কিন্তু তত্ক্ষণাত্ অন্তর শোবিজের স্বত্বাধিকারী স্বপন চৌধুরী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, চ্যাম্পিয়নের নাম ভুল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আর কোনো ভূমিকায় না গিয়ে ঘোষণা করেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জান্নাতুল নাঈম, প্রথম রানার-আপ জেসিয়া ইসলাম ও দ্বিতীয় রানার-আপ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি।
তবে বুধবার বদলে গেল নতুন সুন্দরীর নাম। শীর্ষ নম্বর পেয়েও 'তথ্য গোপন' করায় মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় যেতে পারছেন না জান্নাতুইল নাঈম এভ্রিল। ফলে নতুন 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ' জেসিয়া ইসলাম। জেসিয়া ইসলাম পুরান ঢাকার মেয়ে।
তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। জেসিয়ার বাবার নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। জেসিয়ার মা গৃহিণী, নাম রাজিয়া সুলতানা। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির এই সুন্দরীর বর্তমান বয়স ১৮ বছর।
বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তবে সেটাও দীর্ঘ না। ফ্যাশন হাউজ এক্সটেসির মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তীব্র আগ্রহ থেকে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম লেখান জেসিয়া। নাচ, গান, অভিনয়ের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই জেসিয়ার। শিখেছেন গ্রুমিংয়ে। নাম লেখানোর আগ পর্যন্ত ভাবতেও পারেন নি এই পর্যায়ে তিনি চলে আসতে পারবেন।
রাজধানীর মহাখালীতে একাই থাকেন। বাবা-মায়ের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের কারণে ঢাকায় থেকেও তাঁকে থাকতে হয় একা।   মাঝেমধ্যে বাবা-মার সঙ্গে দেখা করেন। ইঙ্গরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন জেসিয়া। সাউথপয়েন্ট একাডেমি থেকে ও-লেভেল শেষ করে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছেন।
জেসিয়া বলেন, এর আগে কম্পিটিটিভ কোনো কিছুতেই অংশগ্রহণ ছিল না। এটাই জীবনে অংশ নেয়া প্রথম কোনো প্রতিযোগিতা। ফাইনালি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এটার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামীতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজ এবং অমিকন এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে আরও কিছু গ্রুমিং করে মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। সময় খুব অল্প কিন্তু জোরালো প্রস্তুতি নিতে হবে। এই ক'দিন খুব খুব পরিশ্রম যাবে, তবে সেটাকেও কিছু মনে করছেন না। কেননা স্বপ্নপূরণের পথটা পরিশ্রমের এটা বোঝেন।


EmoticonEmoticon