তুলসী পাতার শতগুন!

http://tarokaloy.com/wp-content/uploads/2018/11/tulsi-1024x536.jpg 


তুলসী পাতা আজকাল প্রত্যেকের বাড়ির ছাদে আথবা  বারান্দায় দেখা যায়। একে ঔষধি পাতাও বলা হয় কারন নানান রোগ সারাতে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও এর কথা উল্লেখ্য আছে। কিন্তু তুলসিপাতা চিবিয়ে খাওয়া যাবেনা। এই বিষয়ে কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে তুলসি পাতা চেবানোর সময় প্রচুর মাত্রায় আয়রন এবং মার্কিউরি স্যালাইভার(লালা) সঙ্গে মিশতে শুরু করে। ফলে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে শরীরের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব পরে। তাই বিশেষজ্ঞরা তুলসিপাতা পানি দিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আপনি তুলসী চা বানিয়ে খেতে পারেন।





কিভাবে তৈরি করবেন তুলসী পাতার চা? 
উপকরণ :
তুলসী পাতা ১২-১৫ টি ১/২ চা চামচ আদা কুঁচি, ১/৪ চা চামচ এলাচ গুঁড়া  ৩-৪ কাপ পানি  একটি পাত্রে ৩-৪ কাপ পানি নিয়ে এতে ঐ সবগুলো উপকরণ গুলো দিয়ে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন। সামান্য মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন তুলসী পাতার চা।   



ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় :  তুলসি পাতায় থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান ও একাধিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল কোনও ভাবেই জন্ম নিতে দেয় না। যে রীতিমতো তুলসীপাতা সেবন করে তার ক্যান্সার হওয়ার কোনো সুযোগই নেই শুধুমাত্র উপরওয়ালার ইচ্ছা ছাড়া। তুলসি পাতা ফুসফুস, লিভার, ওরাল এবং স্কিন ক্যান্সার-এর প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।  

 রক্ত পরিশুদ্ধকারি : প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩ টি তুলসি পাতা পানি দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। এর ফলে শরীরের নানান ব্যথা থেকে মুক্তি মেলে। 
  
ডায়াবেটিস সুযোগ নেই : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা সেবনে রক্তে শর্করার বা সুগারের মাত্রা কমতে শুরু করে। এরই সাথে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বেড়ে যায়। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এছাড়াও লিভার এবং কিডনি-কে সুস্থ রাখতে তুলতি পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে।    



স্ট্রেস অথবা ডিপ্রেশন কমাতে : তুলসি পাতা খেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমতে থাকে।আপনি স্ট্রেস অনুভব করলে এর পাতা খেলে সাথে সাথে কাজ করবে। স্ট্রেস লেভেল কমতে শুরু করে। কারণ কর্টিসল হরমোনে সঙ্গেস্ট্রেস-এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।এছাড়াও মানসিক চাপ অথবা ডিপ্রেশন কমাতে তুলসিপাতার জুড়ি নেই। যখনি মানসিক চাপ অনুভব করবেন। তুলসী পাতার চা বানিয়ে খাবেন। উপকার পাবেন।  

 মাথা ব্যথা কমায় : সিডেটিভ এবং ডিসইনফেকটেন্ট প্রপাটিজ থাকার কারণে তুলসি পাতা যে কোনও ধরনের মাথা ব্যথা হোক সেটা মাইনাস বা মাইগ্রেনের ব্যথা তা কমাতে সাহায্য করে। তাই মাথা ব্যথা শুরু করলে গরম গরম তুলসিপাতার চা বানিয়ে খেতে পারেন।   

















সর্দি–জ্বরের উপশম  :  তুলসি পাতাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বললে ভুল হবে না। কারন জ্বর ঠান্ডা এবং সর্দি-কাশি সারাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি অসাধারণ কাজ করে। এটি শরীরের থাকা ভাইরাসকে মেরে ফেলে ফলে জ্বর সারতে সময় লাগে না।   
ব্রণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে : তুলসি পাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ শরীরে প্রবেশ করার পর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের ধ্বংস করে ফেলে। ফলে ব্রণের প্রকোপ কমতে শুরু করে। তাই ব্রন থেকে মুক্তি পেতে তুলসি পাতা খেতে পারেন অথবা সরাসরি মুখে পেস্ট বানিয়েও লাগাতে পারেন।  


EmoticonEmoticon